ঢাকা, বুধবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব হার্ট দিবস আজ

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ইউজ হার্ট ফর এভরি হার্ট’।
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ন্যাশানাল হার্ট ফাউন্ডেশন দিবসটি পালন করছে।

জানা গেছে, অন্যান্য রোগের তুলনায় হৃদরোগে মৃত্যুর হার সবচে বেশি। প্রতি দুই মিনিটে দেশে একজন মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। আর প্রতি ঘণ্টায় মারা যায় প্রায় ৩২ জন মানুষ। একদিনে এর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭৬৯ জনে। যার সংখ্যা মাসে ২৩ হাজার ৮৩।

হিসেব অনুযায়ী প্রতিবছর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ, যার ২৪ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক। তামাক ব্যবহারজনিত অসুখে দেশে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়।

এদিকে তামাকজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। তিনি বলেন, তামাকজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সংশোধনের পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তামাক কোম্পানির অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে।

জিবিডির তথ্য অনুযায়ী, তামাক বাংলাদেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি। সম্প্রতি সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) তামাক ব্যবহার করছে যা হৃদরোগ পরিস্থিতিকে আরও ভাবিয়ে তুলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথিবীব্যাপী সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে হৃদরোগে এবং যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর বিশ্বে ১৯ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশোধনীর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খসড়া সংশোধনীতে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বিলুপ্ত করা, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা, সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এ ধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ শতাংশ করাসহ বেশ কিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে তামাক কোম্পানিগুলো।

কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে শীর্ষে। ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল(পিএইচও) যা বাংলাদেশের ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ট্রান্সফ্যাট ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে অতিরিক্ত মাত্রার কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Email this to someone
email
Print this page
Print
Pin on Pinterest
Pinterest

দৈনিক নবচেতনার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন