ঢাকা, সোমবার, ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশে বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত চলমান রয়েছে; যা পৃথিবীর সকল দেশের ওপর প্রভাব বিস্তর করছে। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। এ যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশেও এ যুদ্ধের বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে।

রোববার (১২ জুন) সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদে একথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া-ইউক্রেনের ভূমিকা রয়েছে। লজিস্টিক ব্যবস্থায় সঙ্কট এবং যুদ্ধের কারণে খাদ্যশস্য ও ভোজ্যতেলের বাজার পৃথিবীব্যাপী অস্থির হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আমদানিকৃত গমের সিংহভাগ আসে রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইউক্রেন থেকে ভোজ্যতেলও আমদানি করে থাকে। কিন্তু যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে গম ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। সেই সাথে গম ও তেল দিয়ে তৈরিকৃত খাবারের দামও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প উৎস থেকে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল ও রাসায়নিক সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বিলাস দ্রব্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কতিপয় বাস্তবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান যৌক্তিক রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের সকল প্রকার এক্সপোজার ভিজিট, স্টাডি ট্যুর, ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে বিদেশ গমন বন্ধ করা হয়েছে। ব্যাংকারদের ক্ষেত্রেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।