ঢাকা, সোমবার, ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রেলের সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে: রেলমন্ত্রী

রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, টিকিটের কালোবাজারি বন্ধে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’- এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রেল মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে স্টেশনে আর টিকিট থাকছে না; সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে থেকে সান্তাহার ভায়া রংপুর-বগুড়া রেলপথে আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

সব টিকিট ঘরে বসেই কিনতে পারবেন যাত্রীরা। এনআইডি দিয়ে টিকিট কিনতে হবে। টিকিট যার নামে তিনিই কেবল ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে কালোবাজারি এমনিতেই বন্ধ হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, একটি ভারসাম্যমূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। রেলের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বাজেটেও ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার কাজ চলছে। টঙ্গী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।

মিটারগেইজ রেলপথগুলোকে ব্রডগেইজে রূপান্তরের কাজ চলছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা হয়ে নিউ জলপাইগুঁড়ি স্টেশন পর্যন্ত রেল কানেক্টিভিটি স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের রেলযোগাযোগ স্থাপিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে ৫তলা ভবন নির্মিত হবে। সেখানে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কমিউনিটি সেন্টারসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা যোগ করা হবে।

পরে মন্ত্রী বাঁশি বাজিয়ে ও পতাকা নাড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে থেকে সান্তাহার ভায়া রংপুর-বগুড়া রেলপথে আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন। ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬টায় পঞ্চগড় ছেড়ে বিকেল ৪টায় সান্তাহার পৌঁছাবে এবং সান্তাহার থেকে সকাল ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌঁছাবে। দুটি রেক দিয়ে দুই প্রান্ত থেকে প্রতিদিন চলাচল করবে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস।

এর আগে ট্রেনটি সান্তাহার থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত চলাচল করত। এ ছাড়া স্টেশনে কার পার্কিং এরিয়া, অ্যাপ্রোচ রোড ও দৃষ্টিনন্দন গেটের ফলক উন্মোচন করেন মন্ত্রী। এ সময় অন্যদের মধ্যে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার, জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলামসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।