ঢাকা, রবিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় কার্যালয়ে ঢুকে গুলি, কাউন্সিলরসহ নিহত ২

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সদস্য হরিপদ সাহা নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৪ জন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের চিকিৎসক নাফিজ সোমবার সন্ধ্যায় দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ দিন বাদ আসর নগরীর পাথুরীয়াপাড়া পানুয়া খানকা শরীফ সংলগ্ন নিজ কার্যালয়ে বসে বৈঠক করার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসীরা এসে কাউন্সিলর কার্যালয়ে প্রকাশ্য গুলি করা হয়।

নিহত কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল (৪৫) পাথুরীয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ শাহজাহানের ছেলে। হরিপদ সাহা (৫৫) নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল নিজ কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কর্মীদেরকে নিয়ে একটি বৈঠক করছিলেন। এ সময় বিরোধকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী শাহ আলম এবং সুমনের নেতৃত্বে ৪টি মোটরসাইকেলযোগে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী ওই কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে চলে যায়।

এতে কাউন্সিলরের পেটে, বুকে এবং মাথায় তিনটি এবং হরিপদ সাহার পেটে এবং বুকে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়। এলোপাথাড়ি গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল চৌধুরী (৩৮), সদস্য মো. বাদল (২৮), কাউন্সিলরের সহযোগী রিজু (২৩), জুয়েল (৪০) ও রাসেল (৩২) আহত হয়।

এ সময় আশপাশের লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল এবং হরিপদ সাহা মারা যান। বাকী চারজন কুমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া জানান, সন্ত্রাসী শাহ আলমের মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছিলেন কাউন্সিলর সোহেল । এ নিয়ে শত্রুতার জেরে সন্ত্রাসী শাহ আলম ও সুমনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কাউন্সিলরের বেশ কয়েকজন সমর্থকের বাড়ি-ঘরও ভাঙচুর করে।

কাউন্সিলর সোহেলে ভাগনে মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সবাই আসরের নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ কানে আসে। গিয়ে দেখি মামা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আমি নিজে মামাকে কাঁধে করে বের করি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম বলেন, সন্ত্রাসীদের গুলিতে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, কাউন্সিলর সোহেল মারা গেছেন বলে শুনেছি। হাসপাতাল থেকে খবর নেন। আমরা অন্যান্য বিষয় সামাল দিচ্ছি।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, সোহেলের শরীরে অন্তত ১০টি গুলি করা হয়েছে। শনিবার তার সঙ্গে একটি সভা করে এসেছি। সোহেল তার এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। আমরা হত্যার বিচার চাই।