ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মাইলফলক অগ্রগতির পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে দেশের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সর্বাধিক ব্যয়বহুল হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর স্থাপন আগামীকাল (১০ অক্টোবর) করা হবে। এটি এ বিদ্যুকেন্দ্রের প্রধান অংশ। এর মাধ্যমেই প্রকল্পের মাইলফলক অগ্রগতি সাধিত হতে যাচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে যন্ত্রে নিউক্লিয়ার ফুয়েল (পারমাণবিক জ্বালানি) বা ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, তার মূল কাঠামো হচ্ছে রিয়্যাক্টর। এটিই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাণ।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর বেশিরভাগ অর্থই সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। রিয়্যাক্টর স্থাপনের পর প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আর বেশি সময় লাগবে না। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জটিল কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। চলতি বছরেই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হবে।

গত ২০১৭ সালের নভেম্বরে এ প্রকল্পের রিয়্যাক্টর ভবনের কংক্রিট ঢালাইয়ের মধ্য দিয়ে মূল কাজ শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকে এ প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার দেশি-বিদেশি শ্রমিক, প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করে যাচ্ছেন।

পরের বছরের জুনে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীও।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এতে রাশিয়া আর্থিক ও কারিগরিসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটম এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর স্থাপন প্রসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, আমরা বড় অগ্রগতিতে পৌঁছে গেছি। তাই আমরা বলতে পারি, নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

এদিকে রূপপুর প্রকল্পের সব যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়েছে রাশিয়ায়। সেখানকার বিভিন্ন কারখানায় এ যন্ত্রগুলো তৈরি করে সমুদ্র পথে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এ বছর আগস্টে দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়্যাক্টরও এসেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, ছয়টি মূল কম্পোনেন্টের মধ্যে চারটি এরই মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে রিয়্যাক্টর প্রেশার ভেসেল, যেটি ১০ অক্টোবর স্থাপন করা হবে। প্রথম ইউনিটের যত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি, সবগুলোই বসে যাচ্ছে।