ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রেডিওর উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রেডিও অনন্য ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে বর্তমানে দেশ গঠনে রেডিও অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান, জন্মনিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণসহ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানমালা শুনে মানুষ অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করে। রেডিও যাতে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য রেডিওর উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেতারের আবাসিক প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস, আঞ্চলিক পরিচালক এস এম মোস্তফা সরোয়ার, উপ বার্তা নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন প্রমুখ।

ইতিহাসের নানা প্রেক্ষাপট উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ তৎকালীন অভিবক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। এটা পুরো জাতি ও বিশ্ববাসী জেনেছিল এবং বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে সেটি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেই দেশবাসী এবং বিশ্ববাসী জেনেছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র।

রেডিও অত্যন্ত প্রাচীন গণমাধ্যম উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পৌঁছাতে পারে রেডিও। টেলিভিশন সমুদ্রের মধ্যে শোনা যায় না। কিন্তু রেডিও বঙ্গোপসাগরের মাঝিমাল্লা, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের চূড়ায় বসেও শোনা যায়। দুর্যোগ দুর্বিপাকের সিগনাল শুনতে রেডিও’র ওপরই নির্ভরশীল থাকে মানুষ। মাঝখানে রেডিও শোনা কমে গেলেও এখন রেডিও শোনার অভ্যাস আবার ফিরে এসেছে। এখন মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে বেতারের অনুষ্ঠান শোনা যায়।

চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রটি স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কালুরঘাটে যে ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন সেই ট্রান্সমিটারটি এখন চট্টগ্রাম পুরনো সার্কিট হাউসে রাখা হয়েছে। এ ট্রান্সমিটারটা আগে যেখানে ছিল সেই কালুরঘাট বেতারের ট্রান্সমিশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সেখানে একটা ছোট্ট জাদুঘর করে রাখা হবে। সেখানে স্বাধীনতা পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। স্বাধীনতা পার্কের সাথেই যেখান থেকেই এ ট্রান্সমিটার দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল সেখানেই থাকা বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশ বেতারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।