ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে ৬৭ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে পানি কমতে শুরু করার পর পদ্মা পারের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। জেলায় পানিবন্দি রয়েছে ৬৭ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ।

গেল কয়েক দিনের পানিবৃদ্ধির ফলে রাজবাড়ী জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এলাকা প্লাবিত রয়েছে। ডুবে গেছে ওই সব এলাকার চলাচলের একমাত্র রাস্তা।

 

সোমবার (৬ আগস্ট) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ী তিনটি গেজ স্টেশন পয়েন্টের মধ্যে দুটি পয়েন্টে পদ্মার পানি কমেছে। এবং একটি পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে। কিন্তু পানি কমলেও সব পয়েন্টেই পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

রাজবাড়ীর তিনটি গেজ পয়েন্টের মধ্যে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার এবং সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৬ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

এদিকে কয়েক দিনের পানিবৃদ্ধিতে জেলার ৫টি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৬৩ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পানিবৃদ্ধিতে ওই সব এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছে পানিবন্দি মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গোখাদ্যের সংকট। জেলায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১ হাজার ৪৫ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২৬ হেক্টর ফসলি জমি।

 

জানা গেছে, পদ্মার পানিবৃদ্ধিতে জেলার নদীতীরবর্তী অঞ্চলের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে গেছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কর্যক্রাম ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন সবাই। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের পুরোটিই পদ্মার চরে। চরে পানি ওঠায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড় হাজার পরিবার এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি রয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে আছে। ফলে চরের মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।

পা্উবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, এক সপ্তাহ ধরে পানিবৃদ্ধি অব্যহত থাকলেও আজ (সোমবার) থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক বলেন, এক সপ্তাহ ধরে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলায় ১০ হাজর ১৩৭টি পানিবন্দি পরিবারের তালিকা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।জেলায় এখন পর্যন্ত ২৪৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।