ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভাসানচর থেকে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। দালালদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে তারা পালাচ্ছেন। আবার কখনো মাছ ধরার ট্রলারে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম হয়ে আবার তারা কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সবশেষ মঙ্গলবার (২২ জুন) ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুসহ ১৪ জন রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে আটক করেছে পুলিশ।

মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর হোসেন মামুন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি বলেন, গতকাল (২২ জুন) ১৪ জন, এর আগে গত ৩০ মে ১৪ জন এবং ৩১ মে ১০ জন রোহিঙ্গা মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের সবাইকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মাছ ধরার ট্রলার মালিক বা জেলেদের টাকা দিয়ে তারা পালিয়ে আসছে। মঙ্গলবার ১৪ জন রোহিঙ্গা দালালদের মাধ্যমে একটি মাছ ধরার ট্রলার যোগে ভাসানচর থেকে সরাসরি মিরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে চলে আসে। এ সময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের আটক করে।

এদিকে, চলতি মাসের প্রথম দিকে ভাসানচর থেকে পালিয়ে যাওয়া ১২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয় নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে। নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকায় চুক্তি করে তারা পালিয়ে আসে। ট্রলারে নোয়াখালী আসার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কোম্পানিগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া গত ৩০ মে চট্টগ্রামের সন্ধীপ থেকে আটক করা হয় ১৪ জন রোহিঙ্গাকে। তারাও একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় কক্সবাজার থেকে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। এরপর, আরও পাঁচ ধাপে মোট ১৮ হাজার ৩৪৭ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।