ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে অব্যবস্থাপনা না করার নির্দেশ

আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় কোনোভাবেই চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে যাতে অব্যবস্থাপনা তৈরি না হয়, সেদিকে সবাই লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণের মজুদ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোরবানির চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সরংক্ষণে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

চামড়াখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে শিল্পমন্ত্রী সোমবার (২১ জুন) ভার্চ্যুয়ালি এসব কথা বলেন।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান এনডিসি, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহেদ আলী, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা ২০২১ উপলক্ষে ট্যানারি মালিকদের সহজশর্তে ঋণ প্রদান এবং চামড়া ব্যবসায়ীদের পূর্বের ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থবিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে দ্রুত সভা করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিগগিরই সভা করে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করবে।

সঠিকভাবে পশুর চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়সমূহ বিজ্ঞাপন/টিবিসি আকারে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। আসন্ন ঈদে দেশে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ করতে না পারে এবং পশুর চমড়া যাতে পাচার না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, টাস্কফোর্সের কর্মপরিধি (টিওআর) অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার জন্য সাব কমিটি গঠন করা হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সহায়তায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী, চামড়া ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের চামড়া ছড়ানো ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং বাকি দিনগুলোতে আরও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

সভায় তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের মাধ্যমে ঈদ-উল-আযহার কয়েকদিন আগে থেকে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই ব্যবসায়ীদের নিয়ে চামড়ার মূল্য নির্ধারণের সভা করা হবে। নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশু জবাইয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মতভাবে বিধি নিষেধ অনুসরণ করতে হবে। যেখানে সেখানে কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না। বিশেষ করে, রাস্তার ওপর কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না।’