ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় চালান পেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের দ্বিতীয় সরবরাহ হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে বাংলাদেশি জনগণের জীবন রক্ষায় ও কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে এবং জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের দ্বিতীয় সরবরাহটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এই সহায়তার মধ্য দিয়ে শুধু কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের মোট স্বাস্থ্য সহায়তার পরিমাণ ৮৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা চিকিৎসা সরঞ্জামের দ্বিতীয় সরবরাহকে স্বাগত জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা উইংয়ের পরিচালক সেহেলি সাব্রিন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ জোঅ্যান ওয়াগনার এবং ইউএসএআইডি-র মিশন ডিরেক্টর ডেরিক এস. ব্রাউন।

জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সর্বশেষ এই সরবরাহটি ইউএসএআইডি, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের জরুরি সেবা কার্যালয় এবং স্বাস্থ্যসেবাদানকারী পেশাজীবীদের আমেরিকান কোম্পানি হেনরি শাইন ইনকের যৌথ অনুদান।

এর আগে, গত ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য দরকারি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ঢাকায় পৌঁছায়।

এ দুটো সরবরাহ বাংলাদেশের মহামারি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত হলো।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকে এই রোগ প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে এবং উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত ৮৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সাম্প্রতিক সরবরাহগুলো বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মোট সহায়তার পরিমাণ আরও দুই মিলিয়ন বৃদ্ধি করল।

এই সহায়তা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন বাঁচাতে ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার সামর্থ্য ও নজরদারি বাড়াতে সহায়তা করছে। এছাড়াও কোভিড-১৯ রোগ ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ চর্চাগুলো জোরদার করা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো, সম্মুখ সারিতে থেকে কাজ করছে যারা তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়া এবং কোভিড-১৯ সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগছে।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোভিড মোকাবেলায় ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা সর্বাধুনিক ১০০টি ভেন্টিলেটর এবং বাংলাদেশ যাতে নিজেরাই ভেন্টিলেটর উৎপাদন করতে পারে সে লক্ষ্যে সহায়তা করতে গ্যাস অ্যানালাইজার দিয়েছে।

বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সহায়তার মধ্যে আরেও রয়েছে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েক লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই, কেএন৯৫ সার্জিকেল মাস্ক, ফেস শিল্ড বা মুখের বর্ম, হ্যাজমেট স্যুট, পুরো শরীর ঢাকার গাউন, মেডিক‌্যাল-গ্রেড হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার্জিকেল গ্লাভস, মেডিক‌্যাল গগলস) সংগ্রহ করে চিকিৎসাকেন্দ্র, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রথম সাড়াদানকারী ও শুল্ক পরিদর্শকদের মাঝে বিতরণ করা এবং বাংলাদেশব্যাপী কোভিড-১৯ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত হাজার হাজার চিকিৎসক ও অন্যান্য সম্মুখসারির কর্মীদের সেবার মান বাড়াতে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান।