ঢাকা, বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ মুছতে বলল ভারত

ভারতে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন প্রায় প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। করোনাভাইরাসে ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে ভারত এখন আমেরিকা এবং ব্রাজিলের পরেই অবস্থান করছে। এমতাবস্থায় ভারতের করোনাভাইরাস ঠেকানোর ব্যর্থতা চারদিকে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি।

এরই ভেতর মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে করোনাভাইরাসের ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ শব্দটি। মোদি সরকারের জন্য এটা কটাক্ষের মতোই বিধঁছে। যদিও এর আগেও ভৌগোলিক বিচারে করোনাভাইরাসের নামকরণ হয়েছে। যেমন যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্ট বা ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট। কিন্তু দ্রুত সংক্রমণের ক্ষমতা সম্পন্ন করোনার ভারতীয় ধরন এখন বিশ্বজুড়ে এক আতংকের নাম। ইতিমধ্যে মধ্যে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ ১২টি দেশে ছড়িয়েছে।

ফলে মান বাঁচাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে ভারত। তারা বলেছে, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ বলতে কোনো শব্দ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নামকরণ করেনি। হু যে ভ্যারিয়েন্টের কথা ভারতে ছড়িয়েছে বলে প্রকাশ করেছে তার নাম ‘বি. ১.৬১৭’। সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনোভাবেই ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ শব্দ ব্যবহার করা যাবেনা। এ শব্দ সম্বলিত সকল কনটেন্ট তাই মুছে দিতে বলেছে মিনিস্ট্রি অব ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি।

ভারতীয় সরকার এবছর সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য গাইডলাইন জারি করেছে, যাতে ভুল তথ্য ছড়াতে না পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ গাইডলাইন মানুষের মুক্ত চিন্তার পরিপন্থী। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর ভারতে বিশাল বাজার। জানুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্যমতে, টুইটারের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার হচ্ছে ভারত। সুতরাং কেউই বাজার হারাতে চাইবেনা। এখন দেখার বিষয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলো আদৌ ‘ভারতীয় ভেরিয়েন্ট’ সম্বলিত কনটেন্ট মুছে ফেলে কি না?