ঢাকা, বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫ চিকিৎসকের নামে মামলা

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে কামরুন নাহার রিনি নামে এক প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগে দায়িত্বরত পাঁচ চিকিৎসকের নামে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) দুপুরে ওই প্রসূতির বাবা এস এম মাহবুব হোসাইন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সদর) মামলা দায়ের করেন।

পরে আদালতের বিচারক মামলা গ্রহণ করে পুলিশ তদন্ত ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিএই) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

মামলা ও প্রসূতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি প্রসূতি ব্যথা নিয়ে কামরুন নাহার রিনিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিসফুন নাহার কয়েকটি শারিরীক পরীক্ষা করতে দেয়। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে তাকে দ্রুত অস্ত্রপচার (সিজার) করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

ডা. নিসফুন নাহারের তত্বাবধানে ডা. অপুসাহা (প্রধান সার্জন), ডা. আবিদা সুলতানা এবং অজ্ঞানের ডাক্তার ডা. ফজলুল হক ও সহকারী ডা. জাকির (ইন্টার্নি) অপারেশন করেন।

প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকরা রোগীর পেটের ভিতর সার্জিক্যাল গজ রেখেই সেলাই করেন। অপারেশন করার পর থেকে রোগীর পেট ব্যথা না কমায় তাকে ২৭ ফেব্রুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নানা পরীক্ষার পর রোগীর পেটে গজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

পরে সেখানে অপারেশন করে পেটের ভিতর থেকে গজ বের করা হয়। দীর্ঘদিন গজ পেটের ভিতর থাকায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে রোগীকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলার বাদি এসএম মাহবুব হোসাইন বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তাররা আমার মেয়ের পেটে গজ রেখে সেলাই করেন। পরে পেটের ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করে পেটের ভিতর গজ পাওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। আমার মেয়ের পেট থেকে গজসহ পেটের কিছু নার্ভ কেটে ফেলতে হয়েছে। ডাক্তারদের ভুলের কারণে আমার মেয়েকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমার মেয়ে এখনও সুস্থ হয়নি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তারদের বিচার দাবি করছি। পরবর্তীতে যাতে এ ধরনের আর ভুল না করে। আমার মেয়ের মতো অন্য কারও যাতে আর এমন কষ্ট ও ভোগান্তি না পোহাতে হয়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর গত ১৩ মার্চ হাসপাতালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রোগীর ঢাকা হাসপাতালের ছাড়পত্র গত তিন দিন আগে আমরা হাতে পেয়েছি। এ কারণে তদন্ত রিপোর্ট দিতে সময় লেগেছে। গতকাল বুধবার (৫ মে) তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগে সত্যতা পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি আমাকে আরো জানিয়েছে, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত এবং অনাকাঙ্খিত। এর আগে জেনারেল হাসপাতালে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনা মাত্র। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা সুপারিশ করব।’