ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাসা থেকে অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমানের লাশ উদ্ধার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান মারা গেছেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) উত্তরার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের নিজ ফ্ল্যাট থেকে ড. তারেক শামসুর রেহমানের লাশ উদ্ধার করি। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্য দিনের মতো আজ তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে থেকে শামসুর রেহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অপরাধ (সিআইডি) ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।

রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রোজেক্টের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাফফর আহমেদ বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন এখানে একাই থাকতেন।’

তারেক শামসুর রেহমান বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতি এবং তুলনামূলক রাজনীতি নিয়ে তার একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরাক যুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক রাজনীতি, গণতন্ত্রের শত্রু মিত্র, নয়া বিশ্বব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব রাজনীতির চালচিত্র, উপ আঞ্চলিক জোট, ট্রানজিট ইস্যু ও গ্যাস রপ্তানি, প্রসঙ্গ বাংলাদেশ।

ইউজিসির শোক: তারেক শামসুর রেহমানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) এক শোক বার্তায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ছিলেন। তিনি তার গবেষণা ও লেখনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।