ঢাকা, সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইট ভাটায়

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসল আবাদ। উপজেলার চর ভদ্রঘাট এলাকায় কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী মাটির টপ সয়েল কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে। এদিকে বাজার ভদ্রঘাট হালদারপাড়া এলাকা থেকে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার খবর পেয়ে গত বুধবার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি উজ্জল খানের মাটির পয়েন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। মাটি বোঝাই ট্রাক নষ্ট করছে গ্রামাঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক, ধুলাবালি ও যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। চর ভদ্রঘাটে ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কয়েকজন ট্রাক শ্রমিক জানান, বাজার ভদ্রঘাট এলাকার পল্লী চিকিৎসক আবু সামা, মোন্নাফ খান, রায়গঞ্জ উপজেলার কয়াবিলের গোলাম রব্বানী এসব ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে। চর ভদ্রঘাট এলাকার কৃষক জামাল শেখ জানান, চর ভদ্রঘাট এলাকার প্রায় তিন বিঘা জমির মাটি কেটেছে কয়াবিলের গোলাম রব্বানী। আরো মাটি কাটার জন্য জমি কিনেছেন তিনি। ক্রয়কৃত জমি থেকে পর্যায়ক্রমে মাটি কাটবে রব্বানী। একই এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমাদের গ্রামের সড়ক দিয়ে মাটি বোঝাই ট্রাক যাতায়াত করায় পুরো সড়ক জুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ধুলা ও যাতায়াতে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। রায়গঞ্জ উপজেলার কয়াবিল গ্রামের গোলাম রব্বানী জানান, উচুঁ জমি সমান করে ধান লাগানোর জন্য জমির মালিকের সাথে কথা বলে মাটি কাটা হচ্ছে। আমি কয়েক ট্রাক মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করেছি। আমার মাটির পয়েন্ট চলবেই কয়েকদিন। সারা বছর আবু সামা ও মোন্নাফদের পয়েন্টে মাটি কাটা চলে। বাজার ভদ্রঘাটের পল্লী চিকিৎসক আবু সামা জানান, ফসলি জমি থেকে আমাদের মাটি কাটা শেষ। চর ভদ্রঘাটে রব্বানী মাটি কাটছে। উনি গতকালও মাটি কেটেছে। ভদ্রঘাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি উজ্জল খান জানান, আমি আমার নিজস্ব জমি থেকে মাটি কেটেছি। জমিটি উচুঁ নিচু থাকার কারণে মাটির টপ সয়েল কেটে আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছি। অনুমতি না থাকায় মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের অনুমতি পেলে মাটি কাটা আবারো শুরু করবো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটলে সে সমস্ত জমিতে ফসলের ফলন ভাল হবে না। টপ সয়েল কাটার পর ওই জমি আবাদযোগ্য করতে কমপক্ষে ৮-১০ বছর সময় লাগতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা জানান, ইতিমধ্যে বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় একটি ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যারা ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।