ঢাকা, সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৮০০ কিলোমিটার দূরের টার্গেটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

ভারত মহাসাগরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। দেশটির এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডসের দুদিনব্যাপী মহড়ার শেষ দিনে এ পরীক্ষা চালানো হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরান এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল। বিগত দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এ নিয়ে ইরান তিন দফায় সামরিক মহড়া চালাল। এর আগে দেশটি ওমান উপসাগরে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর মহড়া চালায়। আর সেনাবাহিনীর ড্রোন মহড়া পরিচালিত হয় ৫ ও ৬ জানুয়ারি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের ওয়েবসাইট সেপাহনিউজ আজ শনিবার জানায়, পরীক্ষা চালানো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিভিন্ন পাল্লার ও ধরনের। এগুলো ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের মধ্যাঞ্চল থেকে ছোড়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দুটো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর সেগুলো সাগরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। শেষ দিনের মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাগেরি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান মেজর জেনারেল হোসেন সালামি এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরালি হাজিজাদেহ। মেজর জেনারেল হোসেন সালামি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশলের বড় লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে শত্রুর বিমানবাহী রণতরি ও যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন।’ আর সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাগেরি বলেছেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, শত্রুর যেকোনো দুরভিসন্ধির জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত। তাদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। তারা যদি কোনো দুরভিসন্ধি করে, তাহলে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের ধ্বংস করে দেব।’ তিনি এও বলেন, ‘আমাদের হামলা চালানোর কোনো মানসিকতা নেই। তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা আত্মরক্ষা করতে প্রস্তুত।’ ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে ইরান। এ চুক্তির শর্ত ছিল, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালের মে মাসে এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় তাঁর দেশ। শুধু তা-ই নয়, তিনি ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানও কয়েক দফায় চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে। সর্বশেষ একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ওই চুক্তির শর্ত আরও লঙ্ঘন করে তেহরান। এ ছাড়া সম্প্রতি ভূগর্ভস্থ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ছবি প্রকাশ করেছে ইরান।