ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পৌরসভা নির্বাচনে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় সন্তুষ্ট: ইসি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ‌‘পৌরসভা নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো ছিল।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনারাই ভোট কেন্দ্রে প্রচুর ভোটার উপস্থিতি দেখিয়েছেন। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মানুষ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে।’ শনিবার ভোটগ্রহণ শেষে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব এসব কথা বলেন। কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব উল্লেখ করেন, ‘দুই একটি ঘটনা যা ঘটেছে তা একেবারেই নগণ্য বলা যেতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় দুষ্কৃতিকারীরা কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে। কিছু সুযোগ সন্ধানী আছে যারা সব সময় এমনটা ঘটিয়ে থাকে। দুষ্কৃতিকারীরা চেষ্টা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষুণ্ন করতে। তারা নির্বাচনের কাজকে বিঘ্ন ঘটাতে চালিয়েছে, কিন্তু নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাদেরকে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।’ তিনি জানান, ৬০টি পৌরসভার মধ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার একটি কেন্দ্রে দুষ্কৃতকারীরা ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা ব্যালট পেপার নিতে পারেনি। তবে ব্যালট বাক্স যেহেতু ভেঙে গেছে প্রিজাইডিং অফিসার ওই নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন। কিশোরগঞ্জের একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই করার চেস্টা করা হয়েছিল। সেখানকার ভোট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৬০টি পৌরসভার সব কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, ‘সাড়ে ৬০০ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে দুয়েকটি কেন্দ্রে সহিংসতার তথ্য পেয়েছি। এটি বড় কিছু নয়। আর আমাদের দেশে সহিংসতা কোনো নির্বাচনে হয় না? সব নির্বাচনেই কমবেশি হয়ে থাকে।’ ভোটের শতকরা হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইভিএমে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ব্যালটে যে তথ্য পেয়েছি, তাতে সর্বোচ্চ ৭৫ পার্সেন্ট এবং সর্বনিম্ন ১৫ পার্সেন্ট ভোট পড়েছে। অবশ্য এটি চুড়ান্ত হিসেব নয়। সার্বিক হিসেবে থেকে ৭০-৭৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে।’ সচিবের অভিমত, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আর নিরপেক্ষ নির্বাচন ভিন্ন বিষয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। নির্বাচনে যদি কেউ না আসে তাহলে সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কিছু করণীয় নেই। নির্বাচনে আসা না আসার বিষয়টি রাজনৈতিক দলের একটি কৌশল হতে পারে।’