Daily Nabochatona ৭৩৭ যাত্রীবাহী বিমানটির অনুসন্ধানের কাজ চলছে – Daily Nabochatona
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ, ১৪২৭

৭৩৭ যাত্রীবাহী বিমানটির অনুসন্ধানের কাজ চলছে

দুর্ঘটনাকবলিত শ্রীজয়া এয়ার বোয়িং ৭৩৭ যাত্রীবাহী বিমানটির অনুসন্ধানের কাজ চলছে। শনিবার জাকার্তা থেকে ৬২ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করার ৪ মিনিট পর নিখোঁজ হয়ে যায় এই বিমানটি। এক বিবৃতিতে দেশটির জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির প্রধান সোয়েরজান্তো জাহজোনো বলেছেন, বিধ্বস্ত এসজে ১৮২ ফ্লাইটটির দুটি ব্ল্যাক বক্সের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা সেগুলো উদ্ধারের কাজ করছে এবং আশা করছি খুব দ্রুত পেয়ে যাবো। বিমানে থাকা কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত না করতে পাড়ায় নিখোঁজ বিমানের অনুসন্ধান চলাকালীন সময়ে যাত্রীদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েই চলছে। জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার কোনও আশা নেই বলে মনে করছেন অনেকেই। নিখোঁজ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আফওয়ানের ভাগ্নে ফারজা মহারাধিকা জানায়, চাচা ছিলেন শ্রীবিজায় এসজে ১৮২ বিমানের প্রধান পাইলট, এই ঘটনার পর থেকেই তাদের পরিবারের সকলেই শোকাহত। তিনি বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে এক বিবৃতিতে বলেন, ৫৪ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন আফওয়ান সেদিন খুব দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অন্যদিনের মত অতটা পরিপাটী হয় বের হননি তিনি। এইটাই ছিল ক্যাপ্টেনের শেষবারের মত তার তিন সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে বের হওয়া। তিনি আরও বলেন, তার মামা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি প্রায়শই তাকে পরামর্শ দিতেন। তিনি তার প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। পাইলট হওয়ার আগেই বিমান বাহিনীতে তিনি তার কর্ম জীবনের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি যাত্রীবাহী বিমান চালানো শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রোফাইল পিকচারে সুপারম্যানের প্রার্থনারত একটি কার্টুন দেখা যায়, সেখানে লেখা ‘আপনি যত উঁচুতে উড়ুন না কেন, আপনি প্রার্থনা না করলে কখনই স্বর্গে পৌঁছাতে পারবেন না’ । বিমানের ৬২ যাত্রীর মধ্যে নিখোঁজ এক যাত্রীর নাম আঙ্গা ফার্নান্দা আফ্রিওন। তার মা আফ্রিদা বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, তিনি এখনও আশাবাদী নিখোঁজ হওয়া ফ্লাইটে থাকা তার ২৯ বছরের ছেলে আঙ্গা ফার্নান্দা আফ্রিওন এখনও বেঁচে আছেন। পশ্চিম সুমাত্রার বাসিন্দা আফ্রিদা বলেন, ‘জাকার্তায় থাকা পরিবারের সদস্যরা তথ্য অনুসন্ধান করছেন। এই করোনা মহামারীতে ভ্রমণ করা বেশ কঠিন, এজন্যই আমি ঘটনাস্থলে যেতে পারছি না। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সে প্রথম সন্তানের জনক হয়েছে। তার শিশু বাচ্চার জন্য হলেও তাকে ফিরে আসতে হবে। বড় কার্গো নৌকায় কাজ করত অ্যাংগা। শুক্রবার বাড়িতে সে ফোন করে জানায় তাকে পন্টিয়ানাকের যেতে হবে, তার বস তাকে যেতে বলেছে। অন্য সাধারাও সময় সে নৌকা করেই বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া আসা করতো। আঙ্গার একটি ছবি নিয়ে তার মা বলেন, আমার ছেলে যদি মারাও যায় তারপরও আমার ছেলের লাশ আমাকে দিন। আমি যেন তাকে অন্তত কবর দিতে পারি। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই যাত্রীবাহী বিমানে ছিলেন নতুন বিবাহিত দম্পতি ইহসান আধলান হাকিম এবং পুত্র ওয়াহুনি।ইহসানের ছোট ভাই অরউইন আমরু হাকিম নিউজ ওয়েবসাইট কম্পাসকে জানায়, সোয়াকর্ণো হাট্টা বিমানবন্দর থেকে তার ভাই তাদের ফোন করে জানায়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমান উড্ডয়নে বেশ কিছুক্ষণ বিলম্ব হচ্ছে।পন্টিয়ানকে বসবাসকারী এই দম্পতি ইহসানের পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াতে কালীমন্তানে যাচ্ছিলেন। এই বিয়ের অনুষ্ঠানই তাদের কাল হয়ে দাঁড়ালো।

মন্তব্য করুন