ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১৫ কার্তিক, ১৪২৭

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: হোয়াইট হাউস তার সুইং স্টেট যার

অক্টোবর উল্টালেই নভেম্বর। ক্যালেন্ডারের কুষ্ঠিতে মাত্র এক পাতার ব্যবধান। দিনক্ষণ গুনতে গুনতে একেবারে হাতের নাগালে চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ৫০টি বিশাল রাজ্যের ভুখণ্ডে এখন ভোট দামামার বিউগল।

কোন রাজ্য কার দখলে, কোন রাজ্যে কত ভোট- সেই জ্যামিতিতে ঘুম হারাম দুই প্রার্থীর। প্রচার ঘুঁটি সাজাচ্ছেন এই অঙ্কেই। ইলেক্টোরাল কলেজনির্ভর ভোট পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্যগুলোয় মোট ইলেক্টোরাল ভোট ৫৩৮টি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে দরকার ন্যূনতম ২৭০টি।

যার অর্ধেকের বেশিই রয়েছে ‘সুইং স্টেট’ তথা ঝুলন্ত রাজ্য বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোয়। যেখানে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ভোটার দ্বিধায় থাকেন কাকে ভোট দেবেন? আর এই ঝুলন্ত রাজ্যগুলোতেই যার জয় হবে, তিনিই হবেন সাদা বাড়ির অধিপতি। হোয়াইট হাউসের আগামী চার বছরের মালিক।

মার্কিন নির্বাচনের ক্রীড়নক এই ১২ সুইং স্টেটের ভোট টানতে প্রচারণার শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিরোধী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে একটির পর একটি এই রাজ্যগুলোতেই ছুটছেন। চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিটি শহরের ওলিগলি।

তবে দিন যতই যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ৭৭ বছর বয়সী বর্ষীয়ান বাইডেনেরই ইলেক্টোরাল কলেজ জয়ের সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ।

নির্বাচনের আর মাত্র ২০ দিন বাকি। চলছে শেষ ধাপের প্রচারণা। করোনা থেকে সুস্থ হতে না হতেই চলতি সপ্তাহে ফের মাঠে নামেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়বারের মতো টার্গেট করেন সেই ‘সুইং স্টেট’গুলোই। সোমবার সারা দিন র‌্যালি-সমাবেশ-জনসংযোগ করেন ফ্লোরিডায়। শেষ করেই মঙ্গলবার ছুটে যান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পেনসিলভানিয়ায়।

আজ বুধবারই যাবেন আরেক ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ আইওয়াতে। এরপর নর্থ ক্যারোলিনায়। একমুহূর্ত বসে নেই বাইডেনও।

প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের পিছু নিয়েছেন তিনি। সোমবার ওহাইওতে দুই দুইটি জনসভা ও র‌্যালি-সমাবেশে যোগ দেন। শেষ করেই তৃতীয়বারের মতো রওয়ানা হন ফ্লোরিডার উদ্দেশে। মঙ্গলবার সারা দিন রাজ্যটির প্রধান প্রধান শহরে জনসংযোগ করেন। আগামী কয়েকদিনের প্রচারণার তালিকায় সুইং স্টেটগুলোকেই প্রাধান্য দেবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ নাগরিকরা ভোট দিলেও মূলত ভোটাররা নন, প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা নির্ধারণ করে ইলেক্টোরাল কলেজ। প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে এ কলেজ সংখ্যা নির্ধারিত হয়। এবারের ইলেক্টোরাল ভোট নির্ধারিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২০১০ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে।

যেমন, জনবহুল ক্যালিফোর্নিয়ার রয়েছে ৫৫ জন কলেজ। আবার বিরল জনসংখ্যার মন্টানার রয়েছে মাত্র ৩টি। দেশটিতে এবার ১২টি রাজ্যকে ‘সুইং স্টেট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই রাজ্যগুলোয় রয়েছে মোট ১৫৬টি ইলেক্টোরাল ভোট। রাজ্যগুলো হচ্ছে যথাক্রমে কলোরাডো (৯টি), ফ্লোরিডা (২৯টি), আইওয়া (৬), মিশিগান (১৬টি), মিনেসোটা (১০টি), নেভাদা (৬টি), নিউ হ্যাম্পশায়ার (৪টি), নর্থ ক্যারোলিনা (১৫টি), ওহাইও (১৮টি), পেনসিলভানিয়া (২০টি), ভার্জিনিয়া (১৩টি) ও উইসকনসিন (১০টি)।

জাতীয় জনমত জরিপে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে বাইডেন ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও এসব রাজ্যে ব্যবধান খুব কম। তবে দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইলেক্টোরাল কলেজ জয়ের সম্ভাবনার দিক দিয়ে ট্রাম্প থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্টের ইলেক্টোরাল কলেজ জয়ের সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ।

বিপরীতে ট্রাম্পের সম্ভাবনা রয়েছে ৯ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট ভোটে বাইডেনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। ইকোনমিস্টের মতে, এবারের নির্বাচনের প্রবণতা বলছে, বাইডেন ৩৪৭টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে পারেন। আর ট্রাম্পের কাছে যেতে পারে ১৯১টি ইলেক্টোরাল ভোট।

আসন্ন নির্বাচনের ফল কী হতে পারে, সে সম্পর্কে ২০ হাজার সম্ভাব্য যুক্তিসঙ্গত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

ওপিনিয়ন রিসার্চ ও দ্য গার্ডিয়ানের এক জনমত জরিপেও ট্রাম্পকে অনেক পেছনে ফেলেছেন বাইডেন। জরিপ মতে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের চেয়ে ১৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী। অন্তত ৫৭ শতাংশ মার্কিনির বাইডেনকে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ বলেছে, ট্রাম্পকে ভোট দেবেন তারা।

মন্তব্য করুন