ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮ আশ্বিন, ১৪২৭

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পুরনো চেহারায় রাজধানী

করোনা মহামারিকে সঙ্গী করে কর্মস্থল এবং প্রয়োজনীয় কাজে ফিরছে মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললেও রাজধানী ঢাকা স্বাভাবিক হওয়ার পথে। সড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ। কিছুদিন আগেও যেসব সড়ক ফাঁকা ছিল, সেগুলোতে এখন যানজট। রাজধানীর কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আবারও পুরনো চেহারায় ফিরছে ঢাকা। রাস্তায় হেঁটে চলা এবং বাসে চেপে গন্তব্যে যাওয়া বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই।

সরেজমিন রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক হয়ে মৈনারট্যাক পর্যন্ত চলাচলকারী হিউম্যান হলারগুলোতে গাদাগাদি করে বসেছে যাত্রী। একপাশে ১০ জনের সিটে বসেছে ১৩ জন। তাদের মধ্যে চালক ও পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন হেলপারসহ মোট ২৮ জনের মধ্যে মাস্ক পরেছে মাত্র চারজন। তাঁরা সবাই নারী যাত্রী।

নিশান নামের এক যুবক যাত্রীকে মাস্ক না পরার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘দেশ এখন স্বাভাবিক, করোনার কোনো ভয় নেই।’ সকাল ১১টায় মতিঝিল থেকে প্রজাপতি পরিবহনে মিরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন ব্যবসায়ী রবিউল। মিরপুর-১২ নম্বরে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রবিউল কালের কণ্ঠকে বলেন, মতিঝিল থেকে মিরপুর-১২ নম্বর আসতে তাঁর সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ওই বাসের চালক নুর আলী বলেন, ‘আবার সেই যানজট শুরু হয়েছে, আমরা কী করব।’

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর ফার্মগেট, মিরপুর-১০ নম্বর থেকে গাবতলী, গাবতলী থেকে শ্যামলী, মৎস্য ভবন থেকে মতিঝিল, আজিমপুর থেকে সদরঘাট, কুড়িল বিশ্বরোড় থেকে বাড্ডা হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট।

হঠাৎ করে রাজধানীতে যানজটের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রজাপতি পরিবহনের এমডি রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাবেক ভাড়ায় গণপরিবহন চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই একযোগে বড়-ছোট মিলে সব ধরনের বাস সড়কে নেমেছে। দুই আসন এক যাত্রী বহনের পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অনেক বাস মালিক বাস চালাননি। লোকসানের ভয়ে তাঁদের বাসগুলো বসেছিল। এখন তাঁরাও সড়কে বাস চালু করেছেন। আবার হিউম্যান হলার, ইজি বাইক, ইঞ্জিনচালিত রিকশাও নির্ভয়ে সড়কে চলাচল করছে। এ ছাড়া রয়েছে পিকআপ ভ্যান। এ কারণে সড়কে যানজট তৈরি হয়েছে।’

রাজধানীর মিরপুর থেকে ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কটি মেট্রো রেলের নির্মাণকাজের কারণে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলো মেরামতকাজ চলছে। বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত। ওই সব গর্তের কারণে যানবাহন চালাতে হচ্ছে ধীরগতিতে। এই ধীরগতির কারণে বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত প্রায় সারা দিন যানজট লেগে থাকে।

স্টাফ রিপোর্টার তানজিদ বসুনিয়া জানিয়েছেন, রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, ফার্মগেট, গাবতলী, মিরপুর ও কালশী রোডে যানজট লক্ষ করা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশান-১-এর সিগন্যালের দুই পাশেই যানজট। গুলশান থেকে বিআরটিসির দ্বিতল একটি বাসে ফার্মগেট যেতে এই প্রতিবেদকের ৫০ মিনিট সময় লাগে। ফার্মগেট যাওয়ার পথে টিবি গেট, মহাখালী আমতলী, রেলগেট ও বিজয় সরণিতে তীব্র যানজট ছিল।

আসিফ রহমান নামের এক যাত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেই আগের মতো জ্যাম। আগের মতো ভিড়। দেখে মনেই হচ্ছে না যে আমরা করোনাভাইরাস মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

ফার্মগেট থেকে ওয়েলকাম পরিবহনের একটি বাসে গাবতলী যাওয়ার পথেও আসাদগেট, শ্যামলী, টেকনিক্যাল মোড়ে যানজট লক্ষ করা গেছে। এ সময় গণপরিবহনের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। গাবতলী মাজার রোড থেকে অছিম পরিবহনের একটি বাসে কালশী হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথেও মিরপুর, কালশীতে তীব্র যানজট লক্ষ করা গেছে।

এদিকে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও ছিল দিনভর যানজট। পুরনো ভাড়ায় বাস চলাচল করলেও গাড়িতে তেমন যাত্রী দেখা যায়নি। কিন্তু সড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে অনেক। বলাকা পরিবহনের চালক রহিম বলেন, ‘করোনার সময় মানুষ সড়কে কম বের হয়েছে। তখন গাড়িও কম ছিল। কিন্তু পুরনো ভাড়ায় ফেরায় সড়কে গাড়ি বাড়লেও যাত্রী তুলনামূলকভাবে কম।’

মন্তব্য করুন