ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭ আশ্বিন, ১৪২৭

করোনাকালে জয়েন্টের ব্যথায় যা করবেন

বিশ্ববাসী আজ কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত। এ ধরনের সংকটময় জীবনে বয়স্কদের বিভিন্ন জয়েন্টে বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে। আগে যারা নিয়মিত মর্নিংওয়াক করতেন, তারা সেটা করতে যান না, আগে যারা সন্ধ্যায় নিয়মমাফিক হাঁটতেন, তারাও শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন অফিস-আদালত খুললেও করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় অন্যান্য স্বাস্থ্যব্যবস্থার রুটিন নিয়মগুলো মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না।

অনেকে এ সময় হাসপাতালের আউটডোরেও যেতে ইতস্তত বোধ করছেন। চিকিৎসকের চেম্বারে যেতে নিরাপদ বোধ করছেন না। কিন্তু যদি আপনার বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ব্যথা করে, তা হলে এ অনিশ্চিত সময়ে কীভাবে ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন? মোকাবিলা করবেন জয়েন্টের তীব্র, অসহনীয় ব্যথা? জয়েন্টগুলো সুরক্ষা দিতে তাই এ পরামর্শ।

প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করুন : জয়েন্টে ব্যথা হলে তা আপনার শরীরের প্রদাহ থেকে হতে পারে। প্রদাহ জয়েন্টটিস্যুগুলো আক্রমণ করে। ফলে আপনার জয়েন্টগুলোর মধ্যে তরল পদার্থ সৃষ্টি হয়। ফলে জয়েন্ট ফুলে যায় এবং মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বাড়িতে বসেই এ প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আপনি। উদাহরণস্বরূপ হাঁটুর কথাই ধরুনÑ হাঁটুতে তীব্র ব্যথা হলে দু-তিনদিন পূর্ণ বা আংশিক বিশ্রাম নিন। কিন্তু বিছানায় শুয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেবেন না। হাঁটু ফোলা কমাতে হাঁটুতে বরফের ঠা-া সেঁক নিন। এ ক্ষেত্রে ব্যথাস্থানে ৫-১৫ মিনিট আইসব্যাগ রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, ত্বকে সরাসরি বরফ রাখবেন না। আইসব্যাগ না থাকলে একটি কাপড়ে বরফ মুড়ে সেটি ব্যথার স্থানে রাখুন। আপনি বিছানায় শুয়ে পা উঁচুতে রাখুন।

প্রদাহবিরোধী ওষুধ ব্যবহার করুন : করোনা মহামারীর প্রথমদিকে রোগীরা এনএসএআইডি বা ব্যথানাশক ওষুধের কথা জেনেছেন। এগুলো আর্থ্রাইটিস ও জয়েন্ট ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য, আর্থ্রাইটিস ও জয়েন্টের ব্যথা কোভিড ইনফেকশন আরও খারাপ করে তোলে। তবে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, এনএসএআইডি কোভিড-১৯ আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এ সময় জয়েন্টে ব্যথার জন্য এনএসএআইডি, যেমনÑ আইবুপ্রফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন খেতে পারেন। তবে প্যারাসিটামল গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো। এখন পর্যন্ত প্যারাসিটামল খুব কার্যকরী ওষুধ। সত্যিকার অর্থে, কোন ওষুধটি আপনার জন্য প্রযোজ্য, সেটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনার জয়েন্টে ব্যথার জন্য এবং সেই ব্যথা নিরাময় ক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক ওষুধ কোনটি সেটা জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

যেসব কারণে ব্যথা বাড়ে, তা পরিহার করুন : জয়েন্টে আঘাত লাগলে বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে জয়েন্টের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। ব্যথা বেড়ে যাওয়ার আরও কারণের মধ্যে রয়েছেÑ চাপ, আবহাওয়া, বারবার হাঁটাচলা করা, ইনফেকশন এবং অতিরিক্ত ওজন। এ ক্ষেত্রে ব্যথা কমাতে আপনি যেসব কাজ করবেন তা হলো নিচু চেয়ারে বসবেন না। দীর্ঘ সময় একটানা হাঁটবেন না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানাম করবেন না। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকবেন না। শরীর বাঁকিয়ে ফেলতে হয়, এমন ব্যায়াম করবেন না। আর এ সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যেটা খাবেন, সেটা সরাসরি শরীরে প্রভাব ফেলে। শারীরিক কাজকর্মের মতো খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে জয়েন্টে ব্যথা হবে। আপনার শারীরিক উচ্চতা ও ভর অনুযায়ী ওজন বজায় রাখবেন।

সঠিক নিয়মে ব্যায়াম করুন : কিছু ব্যায়াম বাড়িতে করতে পারেন, যা আপনার হিপ ও হাঁটু শক্তিশালী করে তুলতে পারে। হিপ ও হাঁটুর স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশি হলো কোয়াড্রিসেপ মাংসপেশি। এ পেশি ঊরুর সামনে থাকে। আপনি হাঁটু সামনের দিকে সোজা করুন বা পা সামনে সোজা ছড়িয়ে দিন। যদি চেয়ারে বসে পা হাঁটুর সমান সোজা রাখেন, তা হলে কোয়াড্রিসেপ পেশির ব্যায়াম হবে। মনে রাখবেন, ভুল ব্যায়ামে হাঁটুসহ নানা স্থানে ব্যথা হতে পারে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম ও বিশ্রাম অতিজরুরি বিষয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন : বর্তমান করোনাকালে অনেক অর্থোপেডিক সার্জন টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছেন। যদি আপনি সরাসরি না দেখাতে চান, তা হলে ভিডিও কল বা ফোনকলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। কিন্তু যদি অবস্থা গুরুতর হয়, তা হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবশ্যই মাস্ক পরে চিকিৎসকের কাছে যাবেন। ওয়েটিং রুমে এবং রোগীর সেবার স্থানগুলোয় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসবেন। ওয়েটিং রুমে যতটা সম্ভব কম সময় কাটাবেন। চিকিৎসককে অনুরোধ করবেন, খুব দ্রুত সময়ে আপনাকে দেখে বিদায় দিতে। একই সময়ে যেন বেশি রোগীর ভিড় না হয়, সেদিকেও চিকিৎসককে খেয়াল রাখতে হবে। রোগীও খেয়াল রাখবেন, বেশি ভিড় থাকা চেম্বারে না যেতে। রোগীকে মনে রাখতে হবে, সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা ধারা প্রায় একই। তাই নির্দিষ্ট চিকিৎসকের চেম্বারে ভিড় না করে অপেক্ষাকৃত কম ভিড়ের চেম্বারে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট করুন। রোগীর সঙ্গে হাসপাতাল বা চেম্বারে একজনের বেশি ভিজিটর আসবেন না। রোগী এবং তার অ্যাটেনডেন্টকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে এবং চেম্বারে ঢোকার আগে তাদের তাপমাত্রা পরীক্ষা অর্থাৎ পুরো হেলথ স্ক্রিনিং করতে হবে। অপারেশনের প্রয়োজন হলে রোগীকে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে নিতে হবে।

মন্তব্য করুন