ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ২৭ শ্রাবণ, ১৪২৭

করোনা নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে রাশিয়া!

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ভুল ধারণাও যে সংক্রমণ ছড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর, অসৎ দাবি ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ এমন অবাস্তব ‘খবর’ বিশ্বাস করে বিপজ্জনক আচরণ করছেন৷ এই সব ভুয়া খবরের উৎস ও এর পেছনে উদ্দেশ্য নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা আছে।

এবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তিনটি ইংরেজি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে, যেখান থেকে করোনা ভাইরাসের মহামারি সম্পর্কে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে৷ বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে ও নিজস্ব পরিচয় যতটা সম্ভব গোপন রেখে ভুয়া খবর বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টাও নাকি করা হচ্ছে ঐসব ওয়েবসাইটে৷ আগামী নভেম্বর মাসে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে করোনা সংকটের ফায়দা তুলতেই এমনটা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি ৷

এমন সুপরিকল্পিত প্রচার অভিযানের পেছনে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছে৷ সে দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-র দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে৷ সংবাদ সংস্থা অ্যাসোশিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা এমন দাবি করেছেন৷ অ্যামেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বে করোনা সংকট নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়াতেই এমনটা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন৷ ‘ক্লাসিফাইড’ বা অতি গোপনীয় এই তথ্য নিয়ে আরও খোলাখুলি আলোচনা সম্ভব করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ায় এই কর্মকর্তারা নাকি মুখ খুলেছেন৷

এপি-র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মার্কিন কর্মকর্তারা এই অভিযোগ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় তুলে ধরেন৷ তাদের মতে, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাসের শুরু পর্যন্ত এই সব চিহ্নিত ওয়েবসাইটে করোনা মহামারি মোকাবিলায় পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রায় দেড়শো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ সেগুলিতে রাশিয়ার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং আমেরিকার অবস্থান দুর্বল দেখানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে৷

এমনকি করোনা সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া আমেরিকাকে আপদকালীন সাহায্য দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে৷ ‘চীনের বিশ্বাস, কোভিড-১৯ আসলে জৈব অস্ত্র’ – এমন শিরোনামেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে৷ অর্থাৎ চীনের সরকারি বিবৃতিও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে৷