ব্যবসা-বানিজ্য

ভোমরা স্থলবন্দরে পাথর আমদানিতে রাজস্ব বেড়েছে ১৬ শতাংশ

নির্মাণকাজে ব্যবহূত কালো পাথরের আমদানি ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে বড় ভূমিকা রাখছে। গতবারের চেয়ে চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথম তিন মাসে ভোমরা দিয়ে কালো পাথর আমদানি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এ খাত থেকে আহরিত রাজস্বের পরিমাণ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের অনেক বড় বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানই এখন ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কালো পাথর আমদানি করছেন।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা বিকাশ কান্তি বড়ুয়া জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বন্দরটি দিয়ে কালো পাথর আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার টনের কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টন। এ হিসাবে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৩৬০ টন।

আমদানি বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কালো পাথর আমদানি থেকে বন্দরের রাজস্ব আহরণের পরিমাণও বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে এ খাত থেকে রাজস্ব এসেছে ২০ কোটি ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৫ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে এসেছে ৮ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬২১ টাকা, আগস্টে ৭ কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৬ এবং সেপ্টেম্বরে ৪ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৮ টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পণ্যটির আমদানি বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হয় ১৭ কোটি ৩০ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫২ টাকার রাজস্ব। এ হিসাব অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কালো পাথর আমদানি থেকে বন্দরের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ১৬ শতাংশ বেশি রাজস্ব এসেছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত এন্টারপ্রাইজের মালিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, তিনি সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক কালো পাথর আমদানি করেন। ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে আমদানির পর এসব পাথর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন। তবে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর পর পাথরের চাহিদা অনেকাংশে বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, পাথর আমদানিতে সরকারকে টনপ্রতি ৭৪৭ টাকা হারে রাজস্ব দিতে হয়।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কালো পাথরের পাশাপাশি সিরামিক পাথরও আমদানি হয়। এ বন্দর ব্যবহারে ঝামেলা কম। যানজট নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *