ব্যবসা-বানিজ্য

রেমিটেন্স কমার জন্য দায়ী হুন্ডি: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

হুন্ডির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিটেন্স কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি বলেন, অনেক বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যে অফিস খুলে বসেছে।

তারা প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাচ্ছে। পরে ওই অর্থ ডলার করে অন্য দেশে পাচার করছে। এটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

রেমিটেন্স কমার এটিই একমাত্র কারণ। এতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে। সবাইকে দেশের প্রতি মায়া রেখে এটি পরিহার করতে হবে।

শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েকটি অর্থনৈতিক মন্দার সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল। এর কারণ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স।

বর্তমানে ১ কোটি ১০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কাজ করছে। তারা ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, মাত্র ২ লাখ বিদেশি পেশাজীবী প্রতিবছর ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সহজেই এ অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আমার ৪-৫টি শিল্পে ভারত ও কোরিয়ার কর্মী রেখে দেখেছি তাদের মনেপ্রাণে এ দেশের প্রতি টান নেই। ১-২ বছর পর তাদের বাদ দিয়ে স্থানীয় কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে দেখেছি ভালো কাজ করছে।

ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেয় না। নিজের টাকা মনে করে সটকে পড়ে। এ কারণে ব্যাংকও টাকা দিতে গড়িমসি করে, নতুন বিনিয়োগ করতে ভয় পায়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাশেম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনএসডিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খোরশেদ আলম।

আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস ও এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্যে আবুল কাশেম খান বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করতে পারছে না। এ কারণে বিদেশি দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন পড়ে। এতে বিদেশে প্রচুর অর্থ চলে যাচ্ছে।

এ অবস্থার পরিবর্তন চাইলে শিগগির বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা অর্থকে ট্যাক্স ছাড় দিতে হবে।

নইলে বেসরকারি খাত গবেষণায় আগ্রহী হবে না। তিনি আরও বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আছেন, যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান।

কিন্তু উপযুক্ত সম্মানীর অভাবে তারা সেটি করতে পারছেন না। এদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব। এ ধরনের এক্সপার্টদের কর হ্রাস করে, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানিসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, যেসব বিদেশি পেশাজীবী বাংলাদেশে কর্মরত আছেন তাদের ফাইল স্টাডি করে দেখা উচিত।

তাহলে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা কোন কোন দিকে তাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে তা বোঝা যাবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশি পেশাজীবীদের ওয়ার্ক পারমিট যাচাই করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে সরকারের একটি পলিসি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যাতে বলা থাকবে, কোন কোন সেক্টরে বিদেশিরা কাজ করতে পারবে। সর্বোপরি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউটগুলোর কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন ডিসিসিআই পরিচালক আতিক-ই-রাব্বানী, সাবেক সহসভাপতি আবদুস সালাম, হায়দার আহমদ খান, গেটস্কিলের সিইও এনামুল হক, ই-জোনের সিইও নূরুল হুদা, মেট্রো নেটের সিইও সালমান কবির ও এমএস সিদ্দিকী প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *