সারাদেশ

সাটুরিয়া-গওলা সড়কে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া-গওলা সড়কের হান্দুলিয়া গ্রামের সড়কে হাঁটুপানি থাকায় হাজার হাজার পথচারীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেসজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাটুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হান্দুরিয়া গ্রামের সরকার বাড়ি থেকে হালিমের দোকান পর্যন্ত সড়কে সামান্য বৃষ্টি নামলেই হাঁটুপানি থাকে। এ সড়কের পাশে ডোবা রয়েছে, আশপাশের বাড়ির পানি জমে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পর থেকে এ সড়ক দিয়ে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার হান্দুলিয়া, চামুটিয়া, কৈজুরি, মালশি, গওলা, ভ্রাম্মনবাড়ী, মৈশাললোহা গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ধামরাই উপজেলার ৫/৬টি গ্রামের হাজার হাজার পথচারীদের চলাচল করতে মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি কওমি মাদ্রাসা, ২টি উচ্চ বিদ্যালয়সহ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ ডিগ্রী কলেজের কয়েক শতাধিক ছাত্র- ছাত্রী চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। হাঁটুপানি মারিয়ে ক্লাসে যেতে জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আলামিন জানায়, গওলা-সাটুরিয়া সড়কের সরকার বাড়ির সামনে এবং হান্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ১২-১৪ ফিট জুড়ে জলাবদ্ধতা থাকে। ফলে আমরা পানি এড়িয়ে বাড়ির উপর দিয়ে যেতে চাইলে মালিকরা বাধা দেন।

হান্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, হান্দুলিয়া সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যায়, যা পরে ১০-১২ দিন ধরে থাকে। এতে আমাদের ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কলাশুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দরবেশ আলী জানান, ১৫-১৬ বছর যাবৎ এই সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে থাকে। ফলে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের সূর্যের আলোর উপর নির্ভরশীল হতে হয়। পানি না শুকালে এ সড়ক দিয়ে হাটা দায়।

চামুটিয়া গ্রামের ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, আমি বিভিন্ন গ্রাম থেকে দুধ কিনে ঢাকায় সরবরাহ করি। এ সড়কে পানি থাকার কারণে আমাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়ে বলে আমরা ব্যাবসায়িক ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হচ্ছি।

কৈজুরি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার, ও চামুটিয়া গ্রামের পিন্টু জানান, আমরা অফিসিয়াল ড্রেস পড়ে এ সড়ক দিয়ে যেতে পারি না। অফিসে গিয়ে প্রতিদিন আমাদের জামাকাপড় পরিবর্তন করতে হয়।

কলাশুর গ্রামের ভ্যানচালক মরুব্বি বাবু জানান, সাটুরিয়া থেকে গওলার অনেক ট্রিপ পাই, কিন্ত হান্দুলিয়া গ্রাম ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বৃষ্টির কারণে হাঁটুপানি থাকার কারণে আমরা ট্রিপ ধরতে পারি না। বৃষ্টির কারণে ঐ স্থান দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাওয়াই যায় না।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার হোসেন পিন্টু কয়েক বছর ধরে এ সড়কে বৃষ্টি নামলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ওয়ার্ডের সদস্য নিয়ে সরকারি কোনো বরাদ্দ পাইনি। সাময়িক বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।

এ বরাদ্দ নিয়ে হান্দুলিয়া গ্রামের ফজলুর রহমান, শিক্ষক রুকন জানান, আমাদের গ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যায় ভুগছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এক বছর হয়ে গেছে। এক বছরে কোনো বরাদ্দ কি আসেনি? তিনি এ জলাবদ্ধতার জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন, যা দিয়ে সমস্যা দূর হবে না। যে কোন মূল্যে তারা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চান তারা। তা না হলে তারা এ সড়ক নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের নামার হুমকি দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *