ব্যবসা-বানিজ্য

চালের দাম কমানোর সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা

কুষ্টিয়ায় জরুরি সভা

কুষ্টিয়ার পাইকারি বাজার বা মোকামে চালের দাম সহনীয় করতে ব্যবসায়ীদের ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। চালকলের মালিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম বলেছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান বলেছেন, দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে মিলমালিকদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

চালের মূল্যবৃদ্ধি ও এর সমাধান নিয়ে গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কেন্দ্রে এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুষ্টিয়ার শীর্ষ কয়েকজন মিলমালিক, চাল ব্যবসায়ী ও চেম্বার নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতেই জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে মিনিকেট ধানের দাম প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। চালকলের মালিকেরা চাল উৎপাদনের জন্য বেশ কয়েক মাস আগে ধান কিনে গুদামে মজুত করে রাখেন। এই দামে ধান কিনলে চালের কেজিপ্রতি দর ৪৭ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে থাকার কথা। তিনি বলেন, হঠাৎ করে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ওই কর্মকর্তা বলেন, একই মানের ধান দিয়ে অনেকে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫১ টাকায় বিক্রি করে। রশিদ অ্যাগ্রো বিক্রি করে ৫৪ টাকায়। দামে এত ফারাক হতে পারে না।

এ সময় খাজানগরের সবচেয়ে বড় চালকল রশিদ অ্যাগ্রো ফুট প্রোডাক্টের করপোরেট অফিসার আবদুস সালাম বলেন, তাঁরা ভালো মানের সর্বোচ্চ দাম দিয়ে ধান কেনেন। এ জন্য তাঁদের মিনিকেট চালের দাম অন্যান্য মিলের চেয়ে বেশি। এর প্রতিবাদ করে আরেক চালকলের মালিক জয়নুল আবেদীন প্রধান বলেন, দামে পার্থক্য কেজিপ্রতি ২৫ পয়সা হতে পারে, ২ থেকে ৩ টাকা নয়।

সভায় কয়েকজন মিলমালিক বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় ১০ ভাগ ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য চালের দাম বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, ৯০ ভাগ ধান মিলমালিকেরা আগেই কিনে রেখে গুদামে মজুত করে রেখেছেন। সেটা ছিল কম দামে কেনা। তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ানোর কারসাজি চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় চেম্বারের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য অনেক মিলমালিক কাজ করছেন। তাঁদের কোনো কৌশল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *