প্রধান সংবাদব্যবসা-বানিজ্য

সুগন্ধি চালে ‘ছাড়’ নেই, চালের গুঁড়ার দাম চড়া

ঈদের বাজার

কোরবানির ঈদে গরুর মাংসের সঙ্গে চালের রুটি খেতে গেলে এবার খরচ খানিকটা বাড়বে। রাজধানীর বাজারে চালের গুঁড়ার দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। তাই এবার পাঁচ কেজি চালের গুঁড়ায় আপনাকে ১০০ টাকা বাড়তি ব্যয় ধরে রাখতে হবে। সঙ্গে সুগন্ধি চালের জন্য রাখতে হবে ৫০ টাকা, যদি আপনি এই চালও ৫ কেজি কেনেন। কারণ, খুচরা বিক্রেতারা সুগন্ধি চালের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেশি চাচ্ছেন। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালে যে ছাড় মিলত, ঈদবাজারে তা দিতে রাজি নন খুচরা বিক্রেতারা।

উৎসবে দেশের মানুষকে মাংস, ভালো মাছের সঙ্গে সুগন্ধি চাল কিনতেই হয়। ঈদুল আজহায় অনেক পরিবারেই চালের রুটি খাওয়ার চল রয়েছে। চালের বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি বাড়িয়ে দিয়েছে চালের গুঁড়ার দাম। কারণ, আতপ চাল থেকেই তৈরি হয় চালের গুঁড়া।

বাজারে প্রতি কেজি আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে, যা গত বছর এ সময়ে ৩০ টাকা ছিল। আপনি চাইলে এই চাল কিনে তা মিল থেকে গুঁড়া করে নিতে পারেন। এতেও অবশ্য বিশেষ লাভ হবে না। প্রতি কেজি চাল গুঁড়া করতে খরচ হবে ১৫ টাকা।

কারওয়ান বাজারে দু-একটি দোকানে চালের গুঁড়া পাওয়া যায়। কেজিপ্রতি দর ৭০ টাকা। বিক্রেতারা চাল ভাঙিয়ে সাধারণ পলিব্যাগে প্যাকেট করে তা বিক্রি করেন। সুপারশপগুলোতেও চালের গুঁড়া পাওয়া যায়। মণিপুরিপাড়ায় স্বপ্ন সুপারশপে সুদৃশ্য প্যাকেটে চালের গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে, দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকাই।

কারওয়ান বাজারে কয়েকটি দোকান ঘুরে অবশেষে চালের গুঁড়ার খোঁজ পেলেন স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদুর রহমান। ঈদে বাসায় চালের রুটি বানানো হবে। স্ত্রী তাঁকে পাঁচ কেজি চালের গুঁড়া নিতে বলেছেন। তাঁর স্পষ্ট মনে আছে, গত শবে বরাতে তিনি চালের গুঁড়া কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ কেজি চালের গুঁড়া কিনতে আমাকে ১০০ টাকা বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। বছরে এক দিনের জন্য এই বাড়তি ব্যয়টুকু হয়তো বেশি নয়; কিন্তু এভাবে ৫ টাকা, ১০ করেই তো ব্যয় বেড়ে যায়।’

আর কী কী খাতে ব্যয় বেড়েছে জানতে চাইলে ওই ক্রেতা বলেন, ‘আগে দুই ভাই মিলে ৩০ হাজার টাকায় একটি গরু কিনে কোরবানি দিতাম। এখন এক পরিবারে দুই ভাগা কোরবানি দিতেই ৩০ হাজার টাকা লাগে। এক বস্তা চালের দাম এখন ২ হাজার ৮০০ টাকা। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গরমমসলা, পোলাওয়ের চাল—সবকিছুর দামই তো বেড়েছে।’ একটি পণ্যের দামও কি কমেনি, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরে চিনি কিনেছিলাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা দরে, এখন সেটা ৫৫ টাকায় পেলাম।’

পাইকারি বাজারে এবার সুগন্ধি চালের দাম বাড়েনি। তবে খুচরা দোকানে আপনার কাছে দাম বেশি চাইলে অবাক না হয়ে বরং দর-কষাকষি করুন। কাজীপাড়ার কবির জেনারেল স্টোরে গতকাল মঙ্গলবার এক কেজি খোলা সুগন্ধি চালের দাম চাওয়া হয়েছে ৯৫ টাকা। বিক্রেতা জানান, মাসখানেক আগে এটা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ছিল।

একইভাবে তেজগাঁওয়ের কলমিলতা বাজারেও ভালো  মানের খোলা চিনিগুঁড়া চাল ৯০-৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের মোড়কে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ থেকে ১২০ টাকা। কিছুদিন আগেও মোড়কে লেখা মূল্য থেকে ক্রেতারা ১০ টাকা ছাড় পেতেন, যা এখন দিতে রাজি নন খুচরা বিক্রেতারা। কারণ, ঈদে তাঁদেরও খরচ বেশি।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের চালের দোকান সিরাজ জেনারেল স্টোরের মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারে সুগন্ধি চালের মধ্যে এখন শুধু চিনিগুঁড়া চালটি আছে। কালিজিরা নেই। এই চাল উৎপাদিত হয় আমন মৌসুমে। বছরের শেষ দিকে হলেও দাম বাড়েনি। ভালো মানের প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া ৮০-৮৫ টাকা ও সাধারণ চিনিগুঁড়া ৭৫-৭৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদে বিরিয়ানির জন্য অনেকে আমদানি করা বাসমতী চাল কেনেন। সুপারশপে পাঁচ কেজি বাসমতীর প্যাকেট ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে পাঁচ কেজি মিলবে ১ হাজার টাকায়। এই বাজারের বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণ মানের খোলা বাসমতী পাঁচ কেজি ৬০০ টাকায়ও বিক্রি হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *